অভিশপ্ত রায়বাড়ি – পূর্ণিমার ভয়ঙ্কর ঘটনা | Bangla Bhuter Golpo

Sharing Is Caring:

“শান্তপুরের অভিশপ্ত রায়বাড়ি, যেখানে পূর্ণিমার রাতে কেউ গেলে ফেরে না। পড়ুন এবং জানুন সেই রাতের ভয়ঙ্কর রহস্য।” এভাবে পাঠককে শুধু গল্প পড়তে নয়, রহস্য ভেদ করতেও টানবে।

1. প্রথম অধ্যায় – রহস্যের সূচনা

শান্তপুর নামের এক ছোট্ট শহর। চারদিক জুড়ে নদী, পুরনো মন্দির, আর মাঝে মাঝে গা ছমছমে নিস্তব্ধতা। এখানেই লাইব্রেরিতে কাজ করে রিনা – বইপোকা, শান্ত স্বভাবের এক মেয়ে।

প্রতিদিনের মতো একদিন বিকেলে লাইব্রেরিতে ঢুকল সাগ্নিক – শহরের নতুন বাসিন্দা। ইতিহাসের বই খুঁজছিল সে, কিন্তু চোখে পড়ল রায়বাড়ি নিয়ে লেখা এক পুরনো পুস্তক।

সাগ্নিক (মৃদু হেসে): “এটা কি সত্যিই ভূতের বাড়ি?”

রিনা (গম্ভীর হয়ে): “শুনেছি, ওখানে গেলে কেউ ফেরে না।”

এই কথাটাই সাগ্নিকের মনে কৌতূহলের আগুন জ্বালিয়ে দিল।

2. দ্বিতীয় অধ্যায় – রায়বাড়ির ইতিহাস

রায়বাড়ি একসময় ছিল জমিদার হরিদাস রায়ের। শোনা যায়, স্বাধীনতার আগে এক রাতে হঠাৎ আগুন লেগে যায় প্রাসাদে। পুরো পরিবার পুড়ে যায়, কিন্তু কারও মৃতদেহ পাওয়া যায়নি।

লোকমুখে গল্প আছে, সেই রাতের আর্তনাদ এখনও শোনা যায়।

“রাত বারোটার পর সেখানে গেলে… কেউ তোমার কানে ফিসফিস করে ‘তুমি কেন এলে?’ বলে।” – এই গল্পই ঘুরে বেড়ায় শান্তপুরে।

3. তৃতীয় অধ্যায় – অভিযানের সিদ্ধান্ত

রিনা প্রথমে রাজি হয়নি, কিন্তু সাগ্নিকের জেদে শেষমেশ ঠিক হল – পূর্ণিমার রাতে দু’জনে রায়বাড়ি যাবে।

সাথে নিল টর্চ, ক্যামেরা, আর একটি পুরনো মানচিত্র।

4. চতুর্থ অধ্যায় – রাতের যাত্রা

রাত ১১টা। কুয়াশা নেমেছে চারদিকে। বাতাসে শীতল হাওয়া, কুকুরের হালকা ডাকে মনে হচ্ছিল যেন কেউ দূর থেকে ডাকছে।

রায়বাড়ির গেট ভাঙা, লোহার গ্রিলে মরিচা।

প্রাসাদের ভিতরে ঢুকতেই দু’জনের পায়ের নিচে কাঁটা কাঁটা শব্দ – ভাঙা কাচ আর শুকনো পাতার।

5. পঞ্চম অধ্যায় – প্রথম অস্বাভাবিকতা

প্রাসাদের ভেতর থেকে যেন ভেসে আসছে গানের সুর – পুরনো ঠুমরি।

কিন্তু আশেপাশে কেউ নেই।

রিনা ভয় পেয়ে সাগ্নিকের হাত শক্ত করে ধরে।

রিনা: “এটা কি তুইও শুনছিস?”

সাগ্নিক: “হ্যাঁ… কিন্তু গানটা কে গাইছে?”

6. ষষ্ঠ অধ্যায় – অতীতের ছায়া

তারা ঢুকল জমিদারের পুরনো শোবার ঘরে।

দেয়ালে বড় আকারের তেলচিত্র – জমিদার হরিদাস রায়, তার স্ত্রী, আর এক ছোট্ট মেয়ে।

হঠাৎ মেয়েটির ছবির চোখ থেকে কালো দাগ বেয়ে নামতে লাগল… যেন রক্ত।

রিনা চিৎকার করে পিছিয়ে গেল।

7. সপ্তম অধ্যায় – ভয়ের চূড়ান্ত মুহূর্ত

বারোটা বাজতেই হঠাৎ দরজা বন্ধ হয়ে গেল জোরে শব্দ করে।

চারপাশে অন্ধকার, কেবল টর্চের আলো।

সেই অন্ধকারে হঠাৎ কারও পায়ের শব্দ – ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে…

তারপর কানে ফিসফিস –

“তুমি কেন এলে?”

8. অষ্টম অধ্যায় – পালানোর চেষ্টা

সাগ্নিক দরজা খুলতে চেষ্টা করল, কিন্তু যেন বাইরের দিক থেকে কেউ চেপে ধরে রেখেছে।

রিনা কাঁপতে কাঁপতে প্রার্থনা করছিল।

হঠাৎ জানলার বাইরে ছায়ার মতো এক মহিলা দাঁড়িয়ে – লাল শাড়ি, খোঁপায় সাদা ফুল, কিন্তু মুখ নেই।

9. নবম অধ্যায় – শেষ সত্য

মহিলাটি ধীরে ধীরে ভেসে এল ঘরের ভেতরে।

তার গলার শব্দ কর্কশ, তবু যেন কষ্টে ভরা –

“আমাদের দগ্ধ করে দিল… আমাদের শান্তি দাও…”

তারা বুঝল – জমিদারের স্ত্রী ও কন্যার আত্মা এখনও মুক্তি পায়নি।

10. দশম অধ্যায় – মুক্তি ও সমাপ্তি

রিনা ও সাগ্নিক পরদিন পুরোহিত ডেকে এনে প্রাসাদে পূজা করায়।

তারপর থেকে রায়বাড়িতে আর গান শোনা যায়নি, কিন্তু গেটের পাশে এখনও শুকনো সাদা ফুল পড়ে থাকে…

কে রাখে, কেউ জানে না।

গল্পের মূল বার্তা

পুরনো অভিশাপ কখনও কখনও শুধু ভয় নয়, মুক্তির অপেক্ষাও হতে পারে।

Bhutik Golpo is The Most Popular Website For Story | You Can Read Horror And Biography In Bengali

Leave a Comment